“মানবতার সেবায় ,সুন্দরবনের সুরক্ষায় ,টেকসই উন্নয়নের প্রত্যয়ে”
প্রস্তাবনা
মানুষ মানুষের জন্য—এই মানবিক আদর্শকে ধারণ করে সমাজের অসহায়, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ন্যায়বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা উন্নয়ন এবং সুন্দরবন ও উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে “সুন্দরবন সেবা কল্যাণ ফাউন্ডেশন” প্রতিষ্ঠিত।
ফাউন্ডেশনটি একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, মানবিকতা ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের নীতিতে পরিচালিত হবে।
ধারা–১
নাম ও পরিচিতি
১. প্রতিষ্ঠানের নাম - সুন্দরবন সেবা কল্যাণ ফাউন্ডেশন।
২. ইংরেজি নাম Sundarban Seba Kallan Foundation
সংক্ষেপে SSKF।
৩. এটি একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান।
৪. ফাউন্ডেশনের সকল কার্যক্রম বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
ধারা–২
মূল দর্শন
দৃষ্টি (Vision)
একটি মানবিক, বৈষম্যহীন, স্বনির্ভর, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা।
অভিলক্ষ্য (Mission)
মানবিক সহায়তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, জীবিকা, নারী ও শিশু উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে বিশেষ করে সুন্দরবন ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নে কাজ করা।
ধারা–৩
মূলনীতি
ফাউন্ডেশনের সকল কার্যক্রম নিম্নলিখিত মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে—
মানবিকতা • সততা • স্বচ্ছতা • জবাবদিহিতা • সমতা • ন্যায়বিচার • অংশগ্রহণ • পরিবেশের প্রতি দায়িত্ব • সেবার মানসিকতা
ধারা–৪
লক্ষ্য
সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র, অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় জনগণকে উন্নয়নের মূল অংশীদার হিসেবে সম্পৃক্ত করে একটি টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা।
উদ্দেশ্যসমূহ
সুন্দরবন সেবা কল্যাণ ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও মানবকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, মানবতার সেবা, সামাজিক উন্নয়ন এবং সুন্দরবন ও উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নে কাজ করবে—
১. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর শিক্ষা অনুসরণ করে মানবসেবা, ন্যায়, সততা, আমানতদারি ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
২. অসহায়, দরিদ্র, এতিম, বিধবা, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা।
৩. যাকাত, সদকা, ফিতরা ও অন্যান্য বৈধ দান-অনুদান যথাযথ নিয়মে সংগ্রহ ও উপযুক্ত মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে সহযোগিতা করা।
৪. দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা গ্রহণে সহযোগিতা করা এবং শিক্ষা উপকরণ, বৃত্তি ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা।
৫. কুরআন, হাদিস, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে সহযোগিতা করা এবং শিশু-কিশোর ও যুবসমাজকে সৎ ও আদর্শ জীবনযাপনে উৎসাহিত করা।
৬. দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিৎসা সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যসচেতনতা, রক্তদান, চক্ষুসেবা, মাতৃ ও শিশুসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিচালনা করা।
৭. ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহযোগিতা করা।
৮. উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের সুযোগ বৃদ্ধিতে কাজ করা।
৯. দরিদ্র নারী, যুবক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে সহযোগিতা করা।
১০. সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, বনজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।
১১. বৃক্ষরোপণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পানি ও মাটি সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও উৎসাহিত করা।
১২. মাদকাসক্তি, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক, জুয়া এবং অন্যান্য সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।
১৩. সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।
১৪. ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসা এবং বৈষম্যহীন সেবা নিশ্চিত করা।
১৫. এতিম, পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করা।
১৬. উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণ করা।
১৭. স্থানীয় জনগণের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ, স্বেচ্ছাসেবামূলক মনোভাব ও মানবসেবার চেতনা সৃষ্টি করা এবং স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
১৮. সরকারি, বেসরকারি, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থা ও দাতা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আইনানুগভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন ও মানবকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।
১৯. সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার, মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে কাজ করা।
২০. সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সততা, আমানতদারি ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য—“সৃষ্টির সেবা, স্রষ্টার সন্তুষ্টির প্রত্যাশায়”—বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করা।
ধারা–৫
কার্যনির্বাহী পরিষদ
ফাউন্ডেশনের সার্বিক নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৭ (সাত) সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ থাকবে।
কার্যনির্বাহী পরিষদের পদসমূহ—
ক্রম
পদসংখ্যা
১. সভাপতি- ১ জন
২.সহ-সভাপতি- ১ জন
৩.সাধারণ সম্পাদক / নির্বাহী পরিচালক-১ জন
৪.নির্বাহী সদস্য- ৪ জন
মোট
৭ জন
ধারা–৬
সভাপতির দায়িত্ব ও ক্ষমতা
সভাপতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নীতিগত অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি—
কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করবেন;
প্রতিষ্ঠানের নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা দেবেন;
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ ও মতামত প্রদান করবেন;
প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও সুনাম রক্ষায় ভূমিকা রাখবেন;
প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
তবে প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও নির্বাহী কার্যক্রম সাধারণ সম্পাদক/নির্বাহী পরিচালক পরিচালনা করবেন।
ধারা–৭
সহ-সভাপতির দায়িত্ব
সহ-সভাপতি সভাপতিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন এবং সভাপতির অনুপস্থিতিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রয়োজনে কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক অর্পিত বিশেষ দায়িত্বও পালন করবেন।
ধারা–৮
সাধারণ সম্পাদক / নির্বাহী পরিচালক
প্রতিষ্ঠানের সর্বময় নির্বাহী দায়িত্ব
সাধারণ সম্পাদক একই সঙ্গে নির্বাহী পরিচালক (Executive Director) হিসেবে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও সর্বময় প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি ফাউন্ডেশনের নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে প্রতিষ্ঠানের সকল দৈনন্দিন প্রশাসনিক, আর্থিক, সাংগঠনিক, প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা, সমন্বয় ও তদারকি করবেন।
নির্বাহী পরিচালকের প্রধান দায়িত্ব—
১. ফাউন্ডেশনের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি করা।
২. কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা।
৩. প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকল্প, কর্মসূচি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন করা।
৪. কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবক ও প্রকল্প কর্মীদের কাজের সমন্বয় ও তদারকি করা।
৫. প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
৬. প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, দায়িত্ব বণ্টন ও কর্মসম্পাদন মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা, যা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত নীতিমালা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী হবে।
৭. প্রতিষ্ঠানের বাজেট, আর্থিক পরিকল্পনা ও ব্যয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকি করা।
৮. দাতা সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করা।
৯. প্রকল্প প্রস্তাব, প্রতিবেদন, চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত ও ব্যবস্থাপনা করা।
১০. প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল যোগাযোগ, নথিপত্র ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
১১. প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, সুনাম, স্বার্থ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা।
১২. জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং পরবর্তী কার্যনির্বাহী পরিষদ সভায় তা অবহিত করা।
১৩. প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করা।
বিশেষ বিধান
ফাউন্ডেশনের দৈনন্দিন প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যবস্থাপনা এবং কার্যক্রমের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ সম্পাদক/নির্বাহী পরিচালক প্রধান নির্বাহী কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে তার কার্যক্রম প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্র, অনুমোদিত নীতিমালা, কার্যনির্বাহী পরিষদের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের অধীন থাকবে।
ধারা–৯
নির্বাহী সদস্যদের দায়িত্ব
কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় অংশগ্রহণ করবেন;
প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করবেন;
নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবেন;
প্রকল্প ও কর্মসূচি পর্যবেক্ষণে সহযোগিতা করবেন;
প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, সুনাম ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।
ধারা–১০
কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ
কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ হবে ৩ (তিন) বছর।
মেয়াদ শেষে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হবে।
ধারা–১১
সভা ও সিদ্ধান্ত
১. কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা প্রয়োজন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে, তবে অন্তত প্রতি তিন মাসে একবার সভা করার চেষ্টা করা হবে।
২. জরুরি প্রয়োজনে বিশেষ সভা আহ্বান করা যাবে।
৩. সভার সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হবে।
৪. সভার কার্যবিবরণী যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
৫. সভায় সমান ভোট হলে সভাপতির ভোট সিদ্ধান্তমূলক হিসেবে গণ্য হবে।
ধারা–১২
সদস্যপদ
ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্য, আদর্শ ও গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল যোগ্য ব্যক্তি নির্ধারিত নিয়মে সদস্য হতে পারবেন।
সদস্যের ধরন ও সদস্যপদ সংক্রান্ত বিস্তারিত নীতিমালা কার্যনির্বাহী পরিষদ প্রণয়ন করতে পারবে।
ধারা–১৩
অর্থের উৎস
ফাউন্ডেশনের অর্থের বৈধ উৎস হতে পারে—
সদস্যদের চাঁদা;
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বৈধ অনুদান;
সরকারি সহায়তা;
দেশি ও বিদেশি বৈধ দাতা সংস্থার অনুদান;
প্রকল্প ও কর্মসূচির বৈধ অর্থায়ন;
অন্যান্য আইনসম্মত উৎস।
বিদেশি অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
ধারা–১৪
আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
ফাউন্ডেশনের সকল অর্থ প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষণ করা হবে।
প্রতিটি আয় ও ব্যয়ের যথাযথ হিসাব, ভাউচার, রসিদ ও প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের অর্থ কোনো কর্মকর্তা বা সদস্য ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবেন না।
ধারা–১৫
হিসাব নিরীক্ষা
প্রতি অর্থবছর শেষে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত করা হবে এবং প্রচলিত আইন ও প্রতিষ্ঠানের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
ধারা–১৬
সম্পদ ও সম্পত্তি
ফাউন্ডেশনের নামে অর্জিত সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে।কোনো সদস্য ব্যক্তিগতভাবে এসব সম্পদের মালিকানা দাবি করতে পারবেন না।
ধারা–১৭
শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি
প্রতিটি সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মীকে সততা, শালীনতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত আচরণ বজায় রাখতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করা বা গঠনতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রমের ক্ষেত্রে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।
তবে ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।
ধারা–১৮
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা
ফাউন্ডেশন কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে কাজ করবে না।
ফাউন্ডেশনের নাম, অর্থ, সম্পদ, কার্যালয় বা প্ল্যাটফর্ম কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না।
ধারা–১৯
সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব
ফাউন্ডেশন তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, বেসরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দেশি-বিদেশি বৈধ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইনসম্মতভাবে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারবে।
ধারা–২০
উপদেষ্টা
প্রয়োজনে সমাজের বিশিষ্ট, অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা যেতে পারে।
উপদেষ্টারা প্রতিষ্ঠানের নীতি, উন্নয়ন, প্রকল্প ও সামাজিক কার্যক্রম বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করবেন।
ধারা–২১
গঠনতন্ত্র সংশোধন
প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ও বাস্তবতার আলোকে গঠনতন্ত্রের কোনো ধারা সংযোজন, সংশোধন বা বিয়োজন করা যেতে পারে।
এ ধরনের সংশোধন কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রস্তাব এবং যথাযথ সাধারণ সভার অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর হবে।তবে কোনো সংশোধন বাংলাদেশের প্রচলিত আইন বা নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষের বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না।
ধারা–২২ :
বিলুপ্তি
বিশেষ পরিস্থিতিতে ফাউন্ডেশন বিলুপ্ত করার প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিধি অনুসরণ করতে হবে।
বিলুপ্তির পর প্রতিষ্ঠানের অবশিষ্ট সম্পদ কোনো সদস্য বা কর্মকর্তার মধ্যে বণ্টন করা যাবে না। আইন অনুযায়ী অনুরূপ জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পদ ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে।
ধারা–২৩ :
চূড়ান্ত বিধান
এই গঠনতন্ত্রের কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা দেখা দিলে প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য, মানবিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইনকে প্রাধান্য দিয়ে বিষয়টির সমাধান করা হবে।
Our customer support team is here to help you anytime.