প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা

১. ভূমিকা ও মূলনীতি

সুন্দরবন সেবা কল্যাণ ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও মানবকল্যাণমূলক সামাজিক প্রতিষ্ঠান। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু সুরক্ষা, জীবিকায়ন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং পরিবেশ ও সুন্দরবন সংরক্ষণে কাজ করাই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ফাউন্ডেশনের সকল কার্যক্রম সততা, ন্যায়, মানবিকতা, সমতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, বয়স, পেশা, সামাজিক বা আর্থিক অবস্থার কারণে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে বৈষম্য করা হবে না।

২. পরিচালনা ও প্রশাসন

ফাউন্ডেশনের সকল কার্যক্রম অনুমোদিত গঠনতন্ত্র, কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্ত এবং দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক কর্মকর্তা, কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ করবেন।

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আলোচনা ও সভার মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের নথি সংরক্ষণ করা হবে। প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, অর্থ, তথ্য ও সুযোগ-সুবিধা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না।

৩. আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা

ফাউন্ডেশনের সকল আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত উদ্দেশ্য ছাড়া কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না। সম্ভব ক্ষেত্রে সকল আর্থিক লেনদেন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে এবং বিল, ভাউচার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হবে।

প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিরীক্ষা করা হবে। ঘুষ, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, স্বজনপ্রীতি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ ও সম্পদের অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

৪. কর্মী, উপকারভোগী ও নিরাপত্তা

ফাউন্ডেশনে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সততাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কর্মীদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

শিশু, নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোনো ধরনের শারীরিক, মানসিক, যৌন বা আর্থিক নির্যাতন, হয়রানি, শোষণ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার গ্রহণযোগ্য হবে না। উপকারভোগী নির্বাচন ও সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, প্রয়োজন ও ন্যায্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

৫. প্রকল্প, পরিবেশ ও অংশীদারিত্ব

ফাউন্ডেশনের সকল প্রকল্প ও কর্মসূচি এলাকার প্রকৃত চাহিদা ও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনা করে গ্রহণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণ, সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, উন্নয়ন সহযোগী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সকল প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন প্রস্তুতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সুন্দরবন, উপকূলীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিরসনে ফাউন্ডেশন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

৬. তথ্য, অভিযোগ ও জবাবদিহিতা

ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম, উপকারভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্যের নিরাপত্তা রক্ষা করা হবে। কোনো অভিযোগ, অনিয়ম বা অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফাউন্ডেশন তার কার্যক্রমের জন্য সদস্য, কর্মী, উপকারভোগী, অংশীদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথভাবে জবাবদিহি করবে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখবে।

৭. রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও নীতিমালা বাস্তবায়ন

সুন্দরবন সেবা কল্যাণ ফাউন্ডেশন কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ বা সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে না। সকল রাজনৈতিক মত ও দলের ঊর্ধ্বে থেকে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের প্রয়োজন, অভিজ্ঞতা, আইনগত পরিবর্তন ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় কার্যকরী কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে এই নীতিমালা সংযোজন, সংশোধন বা পরিমার্জন করা যেতে পারে।

Have questions about this page?

Our customer support team is here to help you anytime.

Contact Support

Subscribe to receive regular newsletters